উদ্ভিদ

ঘরে সবুজের ছোঁয়া

লাইকার্স (Lykkers), গাছের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় না করেই কি ঘরে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আনতে চান? তাহলে পোথোস (Pothos) হতে পারে আপনার জন্য দারুণ একটি পছন্দ।
এর সবুজ পাতায় ছড়িয়ে থাকা রুপালি-সাদা নকশা শেলফ, ডেস্ক কিংবা জানালার কিনারাকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। পর্যাপ্ত আলো ও সামান্য যত্নেই এর লতানো ডালপালা ঘরের সাধারণ একটি কোণকেও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

পোথোস গাছ সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

পোথোস একটি চিরসবুজ লতানো উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো সাধারণত ডিম্বাকার বা হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির হয়। সবুজ পাতার ওপর ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় নকশা গাছটিকে সারা বছরই আকর্ষণীয় করে রাখে। ফুলের চেয়ে এর বাহারি পাতাই মূলত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
গাছের ডালপালা লম্বা হতে থাকলে সেগুলো ঝুলন্ত টব থেকে নিচের দিকে ঝুলতে দিতে পারেন। আবার কোনো অবলম্বনের সাহায্যে ওপরের দিকেও বাড়তে দিতে পারেন। সহজে মানিয়ে নেওয়ার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে পোথোস বসার ঘর, শোবার ঘর কিংবা কর্মক্ষেতর সাজানোর জন্য বেশ উপযোগী।

ঘরের কোন জায়গায় রাখলে পোথোস সবচেয়ে সুন্দর দেখাবে?

বসার ঘরে বই কিংবা শোপিসের পাশে রাখা শেলফে পোথোস দারুণ মানিয়ে যায়। ডেস্কের ওপর রাখলে এর নকশাদার পাতাগুলো কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ করে। আর উজ্জ্বল জানালার পাশে ঝুলন্ত টবে রাখলে এর লতাগুলো নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘরের সাজে নতুন মাত্রা আনে।
পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে বাথরুমেও পোথোস রাখা যায়। রান্নাঘরের জানালার পাশেও এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপের উৎস থেকে গাছটিকে দূরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, টবের মাটিতে যেন দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে। অতিরিক্ত পানি শিকড় পচিয়ে গাছের ক্ষতি করতে পারে।

পোথোস কি সত্যিই ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করতে পারে?

কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট নির্দিষ্ট ধরনের বায়ুবাহিত দূষক শোষণ করতে পারে। তবে একটি ছোট গাছের পক্ষে পুরো বাড়ির বাতাস দ্রুত বিশুদ্ধ করে ফেলা সম্ভব নয়। তাই পোথোসকে ঘরের বাতাস পরিষ্কারের বিকল্প হিসেবে না দেখে এর সৌন্দর্য ও ঘর সাজানোর উপযোগিতার জন্য উপভোগ করাই ভালো।
ঘরের বাতাসের মান উন্নত করতে নিয়মিত জানালা খুলে তাজা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, কম দূষণকারী গৃহস্থালি সামগ্রী ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার পিউরিফায়ার চালানো আরও কার্যকর উপায় হতে পারে।

স্ক্রিনের ক্লান্তি কাটাতে সবুজের মাঝে নিন একটু বিরতি

আমাদের অনেকেই কম্পিউটার কিংবা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দিনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিই। কাজের জায়গার কাছেই একটি গাছ থাকলে মাঝেমধ্যে স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে প্রকৃতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কখনো নতুন পাতা গজানোর দৃশ্য দেখা যায়, আবার কখনো মনে পড়ে যায় গাছটির মাটিতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে কি না।
কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নেওয়া, দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো এবং চোখকে বিশ্রাম দেওয়া ব্যস্ত দিনের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। যদিও পোথোস স্ক্রিন থেকে নির্গত বিকিরণ আটকাতে পারে না, তবুও এর সবুজ ও রুপালি নকশার পাতাগুলো কর্মক্ষেত্রকে আরও স্নিগ্ধ ও মনোরম করে তুলতে পারে।

আলো, তাপমাত্রা ও পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

পোথোস উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে সবচেয়ে ভালো বেড়ে ওঠে। পাতলা পর্দা দেওয়া জানালার পাশে রাখা এর জন্য উপযুক্ত। সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো পাতায় পোড়া দাগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত আলো না পেলে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং পাতার বৈচিত্র্যময় নকশাও ধীরে ধীরে ম্লান হতে পারে।
এই গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য ১৮–২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযোগী। শীতকালে ঠান্ডা বাতাসের সরাসরি প্রবাহ থেকে গাছটিকে দূরে রাখুন। দীর্ঘ সময় ১০° সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা থাকে, এমন জায়গায় পোথোস রাখা এড়িয়ে চলুন।
পানি দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির ওপরের প্রায় দুই সেন্টিমিটার অংশ পরীক্ষা করুন। মাটি শুকনো মনে হলে ভালোভাবে পানি দিন এবং অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে দিন। মাটি তখনো ভেজা থাকলে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করুন। টবের নিচে পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকলে শিকড়ের চারপাশে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে।
জলে জন্মানো পোথোসের ক্ষেত্রেও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। প্রতি এক থেকে দুই সপ্তাহ অন্তর পাত্রের পানি পরিবর্তন করুন এবং পাত্রটি পরিষ্কার রাখুন। শিকড়ে পচন বা ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলে পরিষ্কার কাটার যন্ত্র দিয়ে আক্রান্ত অংশ ছেঁটে ফেলুন।

সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যার সহজ কৌশল

বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে পোথোসের বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য সুষম তরল সার ব্যবহার করা যেতে পারে। সার প্রয়োগের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী পানিতে মিশিয়ে নির্ধারিত মাত্রায় পাতলা করে নিন। ঘরের ভেতরে রাখা গাছের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর সার দেওয়া যথেষ্ট হতে পারে। শীতকালে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে গেলে সার প্রয়োগ কমিয়ে দিন অথবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন।
গাছের সৌন্দর্য বজায় রাখতে হলুদ হয়ে যাওয়া বা শুকিয়ে যাওয়া পাতাগুলো সরিয়ে ফেলুন। ডালপালা অতিরিক্ত লম্বা হয়ে গেলে প্রয়োজনমতো ছেঁটে দিন। এতে গাছটিকে পরিপাটি দেখায় এবং নতুন বৃদ্ধির জন্য জায়গা তৈরি হয়। সুস্থ ডালের অংশ কেটে জলে কিংবা উপযুক্ত মাটিতে বসিয়েও নতুন চারা তৈরি করা যায়।
তবে পোথোস গাছের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। এর পাতায় ও কাণ্ডে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের সূক্ষ্ম স্ফটিক থাকে, যা চিবিয়ে খেলে মুখে জ্বালাপোড়া, ব্যথা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে গাছটি রাখুন, যাতে তারা ভুলবশত এর কোনো অংশ মুখে না দেয়।
সুন্দর পাতা ও সহজ পরিচর্যার কারণে পোথোস ঘর সাজানোর জন্য একটি চমৎকার উদ্ভিদ। পর্যাপ্ত পরোক্ষ আলো, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি এবং পরিমিত সার প্রয়োগের মাধ্যমে সারা বছরই এর সতেজ সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
লাইকার্স (Lykkers), আপনার ঘরে এই আকর্ষণীয় গাছটি কোথায় রাখতে সবচেয়ে ভালো লাগবে—জানালার পাশে, ডেস্কের ওপর, নাকি বসার ঘরের কোনো শেলফে? আপনার পছন্দের জায়গাটি জানান এবং আবিষ্কার করুন, সামান্য একটু সবুজ কীভাবে দৈনন্দিন পরিবেশকে আরও সুন্দর, সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে!

আপনার পছন্দের তালিকা

দেখার জন্য একটি তালিকা বেছে নিন