প্রাণী

শীতে বিড়ালের লোম

হাই, লাইকার্স! শীতের মরসুমের পর কখনও কি আপনার বিড়ালের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, “ওর লোম আগের চেয়ে বেশি কালো দেখাচ্ছে কেন?”
আসলে বিড়ালের লোমের রঙে পরিবর্তন আসার পেছনে তাপমাত্রা, সূর্যের আলো, বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং লোমের পুনরায় গজানোর মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিড়ালের লোমের রঙ তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শীত এলেই সব বিড়ালের লোম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কালো হয়ে যায় না। এই ধরনের পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে কালারপয়েন্ট প্যাটার্নের বিড়ালদের মধ্যে, যেমন সিয়ামিজ ও হিমালয়ান বিড়াল। অন্যদিকে, কালো বা গাঢ় রঙের বিড়ালদের লোমের চেহারা সূর্যের আলো, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা অন্য কারণেও পরিবর্তিত হতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় কালারপয়েন্ট বিড়ালের লোম গাঢ় হতে পারে

তাপমাত্রার সঙ্গে লোমের রঙ পরিবর্তনের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ কালারপয়েন্ট বিড়ালদের মধ্যে দেখা যায়। তাদের শরীরে টাইরোসিনেস নামের একটি তাপমাত্রা-সংবেদনশীল এনজাইম থাকে, যা মেলানিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। মেলানিন হলো সেই রঞ্জক পদার্থ, যা লোম ও ত্বকের রঙ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শরীরের উষ্ণ অংশে এই এনজাইম তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকে। ফলে ধড়ের লোম হালকা রঙের থাকতে পারে। অন্যদিকে কান, মুখ, থাবা এবং লেজের মতো অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা অংশে বেশি রঞ্জক তৈরি হয় এবং সেখানে গাঢ় “পয়েন্ট” দেখা যায়।
শীতকালে শরীরের কিছু অংশের তাপমাত্রা কমে গেলে নতুন গজানো লোমে রঞ্জকের পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে কিছু কালারপয়েন্ট বিড়ালের শরীরের লোমও তুলনামূলকভাবে গাঢ় দেখাতে পারে। পরিবেশ আবার উষ্ণ হয়ে উঠলে নতুন লোমের রঙ ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে।
এখানে পরিবর্তনটি সাধারণত বিদ্যমান লোমের রঙ মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাওয়ার মতো নয়। বরং লোম যখন নতুন করে বাড়ে, তখন সেই সময়কার তাপমাত্রা রঞ্জক তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই পরিবর্তনটি ধীরে ধীরে চোখে পড়ে।

বাড়ির ভেতর ও বাইরে থাকা বিড়ালের লোমে পার্থক্য দেখা যেতে পারে

একটি বিড়াল কোথায় এবং কী ধরনের তাপমাত্রায় বেশি সময় কাটায়, সেটিও তার লোমের চেহারায় প্রভাব ফেলতে পারে। উষ্ণ ঘরের ভেতরে থাকা একটি কালারপয়েন্ট বিড়ালের শরীরের লোম তুলনামূলকভাবে হালকা থাকতে পারে। বিপরীতে, ঠান্ডা পরিবেশে বেশি সময় কাটানো একই ধরনের বিড়ালের নতুন গজানো লোম কিছুটা গাঢ় হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, একটি সিয়ামিজ বিড়াল যদি শীতের সময় ঠান্ডা পরিবেশে বেশি থাকে, তাহলে তার শরীরের কিছু অংশে গাঢ় লোম দেখা যেতে পারে। পরে উষ্ণ পরিবেশে থাকলে নতুন গজানো লোম আবার তুলনামূলকভাবে হালকা হতে পারে।
এ কারণেই একই বিড়ালের বিভিন্ন ঋতুতে তোলা ছবিতে লোমের রঙে লক্ষণীয় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। শুধু এই পরিবর্তন দেখেই অসুস্থতা ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ পরিবেশের তাপমাত্রাও এর একটি স্বাভাবিক কারণ হতে পারে।

সূর্যের আলোয় কালো লোম মরচে বা বাদামি দেখাতে পারে

শীতের সময় লোমের চেহারা বদলালেই যে তা ঠান্ডার কারণে হয়েছে, এমন নয়। সূর্যের আলোও বিশেষ করে কালো বিড়ালের লোমের রঙে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলোতে থাকলে কালো লোমের ডগায় বাদামি, লালচে বা মরচে-ধরা আভা দেখা দিতে পারে। লম্বা লোমের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও সহজে চোখে পড়ে, কারণ পুরোনো লোমের ডগায় রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
তাই কোনো কালো বিড়াল যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রোদযুক্ত জানালার পাশে ঘুমায়, তাহলে তাকে আগের তুলনায় কিছুটা কম কালো দেখাতে পারে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই বাহ্যিক প্রভাবের ফল এবং নিজে থেকেই অসুস্থতার প্রমাণ নয়।
সূর্যের আলো কমে গেলে এবং নতুন লোম গজালে এই রঙের পার্থক্য ধীরে ধীরে কম চোখে পড়তে পারে। তবে শুধু লোমের রঙ দেখে বিড়ালের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয় করা ঠিক নয়।

স্পেইংয়ের পর নতুন গজানো লোম ভিন্ন রঙের হতে পারে

পশুচিকিৎসার কোনো অস্ত্রোপচারের পরও বিড়ালের লোমের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। স্পেইংয়ের মতো অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসার সুবিধার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট অংশের লোম ছেঁটে বা কামিয়ে দেওয়া হতে পারে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন গজানো লোম আশেপাশের লোমের মতোই দেখতে হয়। তবে কালারপয়েন্ট বিড়ালের ক্ষেত্রে একটি মজার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যে অংশের লোম কামিয়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে নতুন লোম কিছুটা গাঢ় হয়ে উঠতে পারে।
এর একটি কারণ হলো লোম গজানোর সময় ওই অংশের ত্বক তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকা। কালারপয়েন্ট বিড়ালের তাপমাত্রা-সংবেদনশীল রঞ্জক উৎপাদনের কারণে সেই অঞ্চলে গাঢ় লোম তৈরি হতে পারে।
পরে ওই অংশ আবার উষ্ণ হয়ে উঠলে এবং নতুন লোমের বৃদ্ধি হলে রঙের বৈপরীত্য ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই অস্ত্রোপচারের পর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে গাঢ় লোম দেখা গেলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। পরিবর্তনটি কখন এবং কোথায় হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

জিনগত কারণেও কালো লোম মরচে-ধরা আভা পেতে পারে

সব ধরনের লালচে বা বাদামি আভার পেছনে ঋতু বা সূর্যের আলো দায়ী নয়। কিছু বিড়ালের ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যই তাদের লোমের রঙে ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।
মেলানিন তৈরির জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় টাইরোসিনেসসহ বিভিন্ন উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এমন জিনগত পার্থক্য লোমের চূড়ান্ত রঙে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কোনো কালো বিড়ালের লোমে স্বাভাবিকভাবেই বাদামি বা মরচে-ধরা আভা থাকতে পারে।
সূর্যের আলো এই প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। তাই একটি বিড়ালের লোমের রঙ দেখে শুধু শীত, গরম বা রোদকে কারণ হিসেবে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে তার বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ এবং সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করা ভালো।
তাহলে, লাইকার্স, শীতকালে কি বিড়ালের লোমের রঙ বদলাতে পারে? কিছু বিড়ালের ক্ষেত্রে অবশ্যই পারে, তবে সব বিড়ালের ক্ষেত্রে নয়। তাপমাত্রা-সংবেদনশীল কালারপয়েন্ট বিড়ালগুলো এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পাশাপাশি সূর্যের আলো, জিনগত বৈশিষ্ট্য, বয়স এবং অস্ত্রোপচারের পর নতুন লোম গজানোর মতো বিষয়ও বিড়ালের লোমকে আগের চেয়ে আলাদা দেখাতে পারে।
পরের বার আপনার বিড়ালের লোমে কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে, শুধু রঙের দিকে না তাকিয়ে পরিবর্তনটি কোথায়, কখন এবং কীভাবে হয়েছে সেটিও লক্ষ্য করুন। এতে একটি স্বাভাবিক ঋতুগত পরিবর্তন আর এমন কোনো পরিবর্তন যা পশুচিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে—দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা অনেক সহজ হবে।

আপনার পছন্দের তালিকা

দেখার জন্য একটি তালিকা বেছে নিন