প্রাণী

শীত পড়তেই বিড়ালের আচরণ

লাইকার্স! আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করলে আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে আমাদের বিড়ালরা হঠাৎ তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস বদলে ফেলছে। তারা হয়তো নরম বিছানা বেছে নিচ্ছে, উষ্ণ কোণায় গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছে, অথবা আমাদের কাছাকাছি বেশি সময় কাটাচ্ছে।
এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো সহজেই উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু এগুলো আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে আমাদের লোমশ সঙ্গীরা কতটা আরাম বোধ করছে।
তাদের ঘুমানোর ভঙ্গি এবং প্রিয় জায়গাগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে, কখন তাদের একটু বাড়তি উষ্ণতার প্রয়োজন হতে পারে তা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব।

বিড়ালরা কেন উষ্ণতা খোঁজে

বিড়ালের লোমশ শরীর প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদান করে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে ঠান্ডা আবহাওয়ায় সব বিড়ালই সমানভাবে আরাম বোধ করে। অল্পবয়সী বিড়াল, বয়স্ক বিড়াল, ছোট লোমের বিড়াল এবং ছোট আকারের বিড়াল কম তাপমাত্রার প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।
ঘরের ভেতরের বিড়ালরাও ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করতে পারে, বিশেষ করে রাতে যখন ঘরের তাপমাত্রা কমে আসে। তাই অনুমান না করে তাদের ঘুমানোর ভঙ্গি, প্রিয় জায়গা এবং দৈনন্দিন আচরণের দিকে নজর রাখা ভালো। এসব পরিবর্তন আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে একটি উষ্ণতর বিশ্রামের জায়গা তাদের জন্য উপকারী হবে কিনা।

প্রথম লক্ষণ: শরীর গুটিয়ে ঘুমানো

ঠান্ডা লাগার একটি লক্ষণ হতে পারে শরীর গুটিয়ে ঘুমানোর ভঙ্গি। আমরা হয়তো দেখব, আমাদের বিড়াল তার থাবাগুলো শরীরের কাছে টেনে নিচ্ছে, মাথা নিচু করছে এবং শরীরটাকে ছোট করে গুটিয়ে নিচ্ছে। বিশ্রামের সময় এই ভঙ্গি শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ঠান্ডা রাতে যদি এই আচরণটি বেশি দেখা যায়, তাহলে আমরা তার বিছানার আশপাশের পরিবেশ পরীক্ষা করতে পারি। একটি নরম কম্বল যোগ করা বা বিছানাটি জানালা কিংবা ঠান্ডা বাতাসের উৎস থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া পুরো ঘরের তাপমাত্রা পরিবর্তন না করেও অতিরিক্ত আরাম দিতে পারে।

দ্বিতীয় লক্ষণ: অস্বাভাবিক ঘুমের জায়গা বেছে নেওয়া

যে বিড়াল হঠাৎ তার পছন্দের ঘুমের জায়গা পরিবর্তন করে, সে হয়তো উষ্ণতা বা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। আমরা তাকে আসবাবপত্রের নিচে, ঢাকা দেওয়া বিছানার ভেতরে, কুশনের পাশে বা অন্য কোনো সুরক্ষিত কোণে বিশ্রাম নিতে দেখতে পারি।
বিড়ালটিকে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরিয়ে না দিয়ে, সে কেন ওই জায়গাটি পছন্দ করছে তা পর্যবেক্ষণ করা ভালো। যদি জায়গাটি উষ্ণতর এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কাছাকাছি একই রকম কিন্তু নিরাপদ একটি বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা যেতে পারে। শান্ত কোণে রাখা একটি ঢাকা দেওয়া বিছানা বিড়ালকে আরামদায়ক বিকল্প দিতে পারে।

তৃতীয় লক্ষণ: আমাদের কাছাকাছি ঘুমানো

আবহাওয়া ঠান্ডা হলে কিছু বিড়াল আমাদের পাশে থাকতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। যে বিড়াল সাধারণত একা ঘুমায়, সে রাতে বিছানায় উঠে আসতে পারে, আমাদের পায়ের কাছে বসতে পারে, অথবা আমাদের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়তে পারে।
আমাদের শরীরের উষ্ণতা তার জন্য আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তবে কাছাকাছি একটি নরম বিছানাও রাখা যেতে পারে, যাতে বিড়ালটির সামনে আরেকটি আরামদায়ক বিকল্প থাকে। এতে সে আমাদের কাছাকাছি থেকেও নিজের পছন্দমতো জায়গায় বিশ্রাম নেওয়ার স্বাধীনতা পায়।

চতুর্থ লক্ষণ: বিশ্রামের সময় কাঁপুনি

কাঁপুনি বা শরীর কাঁপানোর মতো আচরণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার। কোনো বিড়ালের খুব বেশি ঠান্ডা লাগলে তার বিশ্রামের সময় ছোট ছোট, বারবার নড়াচড়া দেখা যেতে পারে। এমনটা হলে তাকে একটি উষ্ণতর ও শুষ্ক জায়গায় নিয়ে গিয়ে নরম আচ্ছাদন দেওয়া যেতে পারে।
এরপর তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিড়ালটি উষ্ণ ও আরামদায়ক হওয়ার পর যদি কাঁপুনি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ঠান্ডা একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে আরামদায়ক পরিবেশেও যদি কাঁপুনি চলতে থাকে, তাহলে এটিকে শুধু ঠান্ডার কারণে হচ্ছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ বিবেচনা করে প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পঞ্চম লক্ষণ: তাপের উৎসের কাছে থাকা

ঠান্ডা মাসগুলোতে বিড়ালরা প্রায়ই বাড়ির উষ্ণ অংশগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়। আমরা তাদের হিটার, উষ্ণ বাতাসের ভেন্ট বা মৃদু উষ্ণতার অন্য কোনো উৎসের কাছে বিশ্রাম নিতে দেখতে পারি।
তবে তাদের তাপের উৎসের একেবারে কাছে আটকে রাখা উচিত নয়। যখনই তারা চাইবে, সরে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা দরকার। হিটিং ডিভাইসের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে না এনে নিরাপদ দূরত্বে একটি আরামদায়ক বিছানা রাখা যেতে পারে। একটি পুরু কম্বল এবং নিরাপদ বিশ্রামের জায়গা উষ্ণতা দিতে পারে, একই সঙ্গে বিড়ালকে নিজের আরাম অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগও দেয়।

একটি আরামদায়ক বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা

সাধারণ কিছু জিনিস দিয়েই বিড়ালের জন্য একটি আরামদায়ক উষ্ণ বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা সম্ভব। একটি নরম ও ধোয়া যায় এমন কম্বল, আরামদায়ক বিছানা এবং দরজা বা জানালা থেকে দূরে একটি শান্ত কোণ প্রায়ই যথেষ্ট হতে পারে।
বিছানাটি নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত এবং স্যাঁতসেঁতে বা ঠান্ডা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করা ভালো। শুধু উষ্ণতা যোগ করাই নয়, জায়গাটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি আরামদায়ক স্থান তৈরি করা, যেখানে বিড়াল শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং যথেষ্ট গরম অনুভব করলে নিজের ইচ্ছায় সরে যেতে পারে।

একসাথে বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখুন

শুধু একটি আচরণ সবসময় আমাদের বলে দেয় না যে একটি বিড়াল ঠিক কেমন অনুভব করছে। বরং একসাথে কয়েকটি পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। যেমন—শক্ত করে গুটিসুটি মেরে শোয়া, উষ্ণতর স্থান বেছে নেওয়া, আমাদের সঙ্গ খোঁজা, কাঁপা বা কোনো তাপের উৎসের কাছে দীর্ঘ সময় থাকা।
যখন এই আচরণগুলোর কয়েকটি একসাথে দেখা যায়, তখন ঘরের তাপমাত্রা এবং বিড়ালের ঘুমানোর জায়গার দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় সামান্য কিছু পরিবর্তনই তার আরামের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

আসুন আমাদের বিড়ালদের আরামে রাখি

লাইকার্স, শীতকাল আমাদের বিড়ালদের আরেকটু কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার একটি ভালো সুযোগ দেয়। যদি আমরা শরীর গুটিয়ে ঘুমানো, উষ্ণ জায়গা খোঁজা, আমাদের কাছাকাছি থাকা, কাঁপুনি বা তাপের উৎসের কাছে থাকার মতো আচরণ লক্ষ্য করি, তাহলে তাদের বিশ্রামের জন্য একটি উষ্ণ, শুষ্ক ও শান্ত জায়গা তৈরি করতে পারি।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিড়ালকে জোর করে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা নয়, বরং তার সামনে নিরাপদ ও আরামদায়ক বিকল্প তৈরি করা। এতে সে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণতা এবং বিশ্রামের জায়গা বেছে নিতে পারবে।
আপনি কি আপনার বিড়ালের মধ্যে এই আচরণগুলোর কোনোটি লক্ষ্য করেছেন? আজ রাতে তার প্রিয় ঘুমানোর জায়গাটির দিকে একটু খেয়াল করুন। আমাদের পক্ষ থেকে একটি ছোট পরিবর্তনই লোমশ সঙ্গীদের শীতের দিন ও রাতগুলোকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

আপনার পছন্দের তালিকা

দেখার জন্য একটি তালিকা বেছে নিন