প্রাণী

বিড়ালছানা কেনার আগে

প্রিয় পাঠকগণ! একটি বিড়ালছানা পছন্দ করাটা অনেকটা বেকারির শো-কেস থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পেস্ট্রিটি বেছে নেওয়ার মতো মনে হতে পারে।
সবগুলোই দেখতে ভীষণ মিষ্টি, আপনার মন আনন্দে নেচে ওঠে, আর হঠাৎ করেই যুক্তিবোধ যেন একটু ছুটিতে চলে যায়।
কিন্তু আপনি যদি এমন একটি বিড়ালছানা চান, যে আপনার বাড়িতে সুস্থভাবে জীবন শুরু করবে, তাহলে শুধু তার চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সুস্বাস্থ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যাচাই করা ভালো।
একটি সুস্থ বিড়ালছানা সাধারণত প্রাণবন্ত, কৌতূহলী এবং সতর্ক থাকে। এর মানে এই নয় যে সে প্রতি মুহূর্তে ছোট্ট অ্যাক্রোব্যাটের মতো পর্দা বেয়ে উঠবে, তবে মানুষের উপস্থিতি খেয়াল করা, শব্দে প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়ে আগ্রহ দেখানো তার স্বাভাবিক আচরণের অংশ হওয়া উচিত। যে বিড়ালছানাকে অস্বাভাবিকভাবে শান্ত, দুর্বল বা উদাসীন মনে হয়, তাকে আরও সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। প্রাণবন্ত আচরণ প্রায়শই একটি বিড়ালছানার সামগ্রিক অবস্থার প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার সহজ উপায়।

চোখ এবং নাক পরীক্ষা করুন

চোখ পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং স্বাভাবিক দেখানো উচিত। অতিরিক্ত পানি পড়া, খসখসে ময়লা, লালচে ভাব বা চোখ ছোট করে রাখার মতো লক্ষণ থাকা উচিত নয়। একইভাবে, নাকও সাধারণত পরিষ্কার থাকবে এবং অতিরিক্ত সর্দি বা শ্লেষ্মা দেখা যাবে না।
ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা ঝিমিয়ে থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু চোখ ও নাক যদি নিয়মিতভাবে অপরিষ্কার থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এটিকে অনেকটা গাড়ির ড্যাশবোর্ডের সতর্কসংকেতের মতো ভাবতে পারেন। একটি ছোট লক্ষণ হয়তো বড় কিছু নয়, কিন্তু একাধিক অস্বাভাবিক লক্ষণ একসাথে দেখা গেলে আরও তথ্য নেওয়া জরুরি।

কান এবং লোমের দিকে দেখুন

কানের ভেতর মোটামুটি পরিষ্কার থাকা উচিত এবং অতিরিক্ত কালো বা কফির গুঁড়োর মতো ময়লা থাকা স্বাভাবিক নয়। যদি বিড়ালছানাটি বারবার কান চুলকায়, মাথা ঝাঁকায় বা কানের ভেতর অতিরিক্ত ময়লা দেখা যায়, তাহলে সম্ভাব্য সমস্যার বিষয়ে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
লোম পরিষ্কার, নরম এবং মোটামুটি মসৃণ দেখাবে। অতিরিক্ত রুক্ষতা, খালি জায়গা, ক্ষত, ত্বকের জ্বালাপোড়া বা অস্বাভাবিক খুশকি চোখে পড়লে তা উপেক্ষা করবেন না। একটি পরিপাটি লোম বিড়ালছানার সামগ্রিক পরিচর্যা ও অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

শ্বাসপ্রশ্বাস এবং শক্তির দিকে লক্ষ্য করুন

শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক ও শান্ত হওয়া উচিত। কোনো বিড়ালছানার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, হাঁপাচ্ছে, অস্বাভাবিক শব্দ করে শ্বাস নিচ্ছে বা ক্রমাগত হাঁচি দিচ্ছে বলে মনে হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
শক্তির মাত্রার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। একটি সুস্থ বিড়ালছানার মধ্যে সাধারণত কিছুটা চঞ্চলতা দেখা যায়। এক মুহূর্তে সে খেলনার পেছনে ছুটছে, আর পরের মুহূর্তেই ছোট্ট গোয়েন্দার মতো ঘরের কোনো কোণ পরীক্ষা করছে।
যদি বিড়ালছানাটিকে দীর্ঘ সময় ধরে নিস্তেজ, দুর্বল বা অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত মনে হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও প্রশ্ন করুন এবং প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের মূল্যায়ন নিন।

চলাচল এবং শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করুন

বিড়ালছানাটিকে কিছুক্ষণ হাঁটা ও খেলা করতে দেখুন। তার চলাফেরা স্বাভাবিক ও সমন্বিত হওয়া উচিত। স্পষ্ট খোঁড়ানো, জড়তা, ভারসাম্যের সমস্যা বা নড়াচড়ার সময় অস্বস্তির লক্ষণ থাকা উচিত নয়।
তার শরীরের গঠনও লক্ষ্য করুন। খুব দুর্বল বা অস্বাভাবিকভাবে ফোলা দেখাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন। একটি সুযত্নপ্রাপ্ত বিড়ালছানার শরীরে সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর চেহারা থাকা উচিত।
খেলার সময় তার নড়াচড়া লক্ষ্য করাও বেশ কার্যকর। সে কীভাবে দাঁড়ায়, হাঁটে, লাফ দেয় এবং খেলনার দিকে এগিয়ে যায়—এসব ছোট বিষয় থেকেও তার শারীরিক অবস্থার একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

যত্ন এবং দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন

শুধু চোখে দেখে পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট নয়। বিড়ালছানাটি কী খাবার খায়, তার পশুচিকিৎসা পরীক্ষা হয়েছে কি না, কোন টিকা দেওয়া হয়েছে এবং তার দৈনন্দিন রুটিন কেমন—এসব সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞাসা করুন।
টিকার রেকর্ড ও পশুচিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দেখুন।
বিড়ালছানাটি কী ধরনের খাবারে অভ্যস্ত তা জেনে নিন।
কোনো অসুস্থতা, চিকিৎসা বা বিশেষ পরিচর্যার ইতিহাস আছে কি না জিজ্ঞাসা করুন।
বিড়ালছানাটি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, সেটি পরিষ্কার ও নিরাপদ কি না লক্ষ্য করুন।
উত্তরগুলো যদি অস্পষ্ট হয়, তাহলে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া উচিত। কারণ একটি সুস্থ বিড়ালছানা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা সবচেয়ে সুন্দর মুখটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়—যদিও সেই মুখটি আপনার আত্মসংযমের পরীক্ষা নিতে যথেষ্ট সক্ষম!
স্বচ্ছ চোখ, পরিষ্কার নাক, পরিপাটি কান, স্বাস্থ্যকর লোম, স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস, মসৃণ চলাফেরা এবং প্রাণবন্ত কৌতূহলের মতো লক্ষণগুলো খেয়াল করুন। সময় নিন, প্রশ্ন করুন এবং সম্ভব হলে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুরুতে কয়েক মিনিট অতিরিক্ত সময় নিয়ে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা আপনার এবং আপনার নতুন লোমশ সঙ্গীর ভবিষ্যৎ জীবনকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করে তুলতে পারে।

আপনার পছন্দের তালিকা

দেখার জন্য একটি তালিকা বেছে নিন