প্রাণী

ম্যাকাও এক সঙ্গীর পাখি!

কেমন আছেন, বন্ধুরা! ম্যাকাও তাদের শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক ও দীর্ঘস্থায়ী জোড়া বন্ধনের জন্য পরিচিত। বেশ কয়েকটি প্রজাতি দীর্ঘ সময় ধরে একই সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে, বিশেষ করে প্রজনন ও বাচ্চা লালন-পালনের সময়।
একই সঙ্গে, কণ্ঠস্বর শেখার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে ম্যাকাও মানুষের কথা থেকে শুরু করে আশপাশের নানা ধরনের শব্দ অনুকরণ করতে পারে। যথেষ্টবার শুনলে এমন শব্দ বা বাক্যাংশও তারা শিখে ফেলতে পারে, যেগুলো মানুষ সাধারণত অনুপযুক্ত বলে মনে করে।

ম্যাকাও জোড়া সারাজীবন একসাথে থাকতে পারে

বেশ কয়েকটি ম্যাকাও প্রজাতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি আজীবন জোড়া বন্ধনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নীল-হলুদ ম্যাকাও একগামী জোড়া গঠন করে এবং সঙ্গীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখে। লাল-সবুজ ম্যাকাওও একগামী জোড়া বন্ধনের জন্য পরিচিত এবং বড় সামাজিক সমাবেশের বাইরে প্রায়ই সঙ্গীর কাছাকাছি থাকে। স্কারলেট ম্যাকাওর ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী একগামী জোড়া বন্ধনের প্রমাণ রয়েছে।
যদিও ম্যাকাওরা ঘুমানোর সময় দলবদ্ধ হতে পারে এবং অন্যান্য ম্যাকাওয়ের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশা করে, প্রজননকারী জোড়াগুলো সাধারণত একে অপরের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় কাটায়। তাদের জোড়া বন্ধনে শারীরিক ও সামাজিক যোগাযোগ উভয়ই থাকে। উদাহরণস্বরূপ, স্কারলেট ম্যাকাও পরস্পরের পালক পরিষ্কার করার সময় স্পর্শের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখে।
সঙ্গীর কাছাকাছি থাকা তাদের বৃহত্তর সামাজিক জীবনেরও একটি অংশ। কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ, একসঙ্গে চলাফেরা এবং সমন্বিত বিভিন্ন কার্যকলাপ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।

ম্যাকাওরা শব্দ শেখে এবং অনুকরণ করে

ম্যাকাও শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের ডাক দেয় না। তাদের কণ্ঠস্বরের ভাণ্ডারে বিভিন্ন ধরনের শব্দ থাকে, যা সামাজিক যোগাযোগসহ নানা পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। কিছু ম্যাকাও প্রজাতি কণ্ঠস্বর শেখা ও অনুকরণের অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করে এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের শেখা শব্দের ভাণ্ডারও পরিবর্তিত হতে পারে।
উভয় লিঙ্গের ম্যাকাওই কণ্ঠস্বর তৈরি করে এবং শেখা শব্দ সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। বাসা বা প্রজননক্ষেত্র রক্ষার সময়ও বিভিন্ন ধরনের ডাক ব্যবহার করা হতে পারে।
তোতাপাখিদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের কণ্ঠস্বর শেখার ক্ষমতা। এর ফলে তারা শুধু জন্মগতভাবে নির্ধারিত ডাকের ওপর নির্ভর করে না; বরং আশপাশের পরিবেশ থেকে শব্দ শুনে তা মনে রাখতে এবং পরে অনুকরণ করতে পারে।

কেন কিছু তোতাপাখি অশ্লীল শব্দ শেখে

মানুষের কথা অনুকরণ করার ক্ষমতার কারণেই একটি পোষা তোতাপাখি তার আশপাশে বারবার শোনা শব্দ পুনরাবৃত্তি করতে পারে। খাঁচায় থাকা তোতাপাখিদের মধ্যে এমন আচরণের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে তারা মানুষের কাছ থেকে শোনা অশ্লীল বা আপত্তিকর শব্দও বারবার নকল করেছে।
একটি ব্রিটিশ বন্যপ্রাণী উদ্যানেও এমন একদল তোতাপাখির ঘটনা সামনে এসেছিল, যারা মানুষের কণ্ঠস্বর অনুকরণ করতে গিয়ে আপত্তিকর শব্দ শিখেছিল। পাখিগুলো মানুষের কথার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কণ্ঠস্বরও অনুকরণ করেছিল। অর্থাৎ তারা শব্দের সামাজিক অর্থ বোঝে বলেই সব সময় তা বলছে এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রে তারা কেবল বারবার শোনা শব্দের অনুকরণ করছে।
একই শেখার ক্ষমতার কারণে তোতাপাখি নিরীহ শব্দও অনুকরণ করতে পারে। বাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতির শব্দ, দরজা খোলার আওয়াজ কিংবা আশপাশের অন্যান্য পরিচিত শব্দও তাদের কণ্ঠস্বরের ভাণ্ডারে ঢুকে যেতে পারে।
তবে প্রতিটি ম্যাকাও মানুষের কথা শিখবে বা অশ্লীল শব্দ পুনরাবৃত্তি করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোন পাখি কোন শব্দ শিখবে, তা ব্যক্তি ও পরিবেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। অশ্লীল ভাষা অনুকরণের প্রমাণও ম্যাকাওয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তোতাপাখি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে এ ধরনের আচরণ দেখা গেছে

ম্যাকাও মালিকদের জন্য এর অর্থ কী

মানুষের কাছাকাছি বসবাস করা একটি ম্যাকাও তার পরিবেশ থেকে নিয়মিত শোনা শব্দ শিখতে পারে। কোনো শব্দ যদি বারবার, স্পষ্টভাবে এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে উচ্চারিত হয়, তাহলে সেটি পাখিটির শেখা কণ্ঠস্বরের অংশ হয়ে যেতে পারে।
পাখিকে কী শেখাবেন, তা আপনার আচরণেও নির্ভর করে:
যারা চান না তাদের ম্যাকাও আপত্তিকর শব্দ শিখুক, তাদের উচিত পাখিটির সামনে এমন শব্দ ব্যবহার না করা। পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পাখিটির চারপাশে ব্যবহৃত শব্দের ধরন পরিবর্তন করলে তার শেখার সুযোগও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো পাখি অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ শিখে ফেললে তাকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে পরিবেশে কোন শব্দগুলো বারবার শোনা যাচ্ছে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
ম্যাকাওয়ের দীর্ঘস্থায়ী জোড়া বন্ধন এবং মানুষের কথা অনুকরণ—দুটি বিষয়ই তাদের অসাধারণ সামাজিক ও শেখার ক্ষমতার উদাহরণ। একদিকে বেশ কয়েকটি প্রজাতি দীর্ঘমেয়াদি একগামী সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, অন্যদিকে তাদের কণ্ঠস্বর শেখার ক্ষমতা আশপাশের পরিবেশ থেকে নতুন শব্দ গ্রহণ করার সুযোগ দেয়।
তাই একটি ম্যাকাওয়ের সঙ্গে বসবাস করলে শুধু তার সামাজিক আচরণের দিকেই নয়, সে প্রতিদিন কী শুনছে সেদিকেও নজর রাখা উচিত। কারণ এই বুদ্ধিমান পাখি শুধু তার সঙ্গীর কাছ থেকে সামাজিক আচরণ শেখে না—মানুষের কাছ থেকেও এমন শব্দ শিখতে পারে, যা পরে সে নিজের কণ্ঠে অবিকল ফিরিয়ে দিতে পারে!

আপনার পছন্দের তালিকা

দেখার জন্য একটি তালিকা বেছে নিন