প্রাণী
কুকুর যে শব্দ শুনে
হ্যালো, লাইকার্স (Lykkers)! প্রিয় কোনো রেডিও স্টেশনের ঠিক পাশের ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউন করা একটি রেডিওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতিটা বেশ অদ্ভুত—মনে হয় যেন কিছু একটা আছে, কিন্তু সিগন্যালটা ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না।
মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষেত্রেও অনেকটা এমনই ঘটে। আমরা এমন এক বিশাল শব্দের জগতের মাঝে বাস করি, যার অনেক অংশ অন্য প্রাণীরা অনায়াসে শুনতে পেলেও মানুষের কানে তা ধরা পড়ে না।
মানুষের শ্রবণসীমা আসলে কতটুকু
মানুষ সাধারণত ২০ থেকে ২০,০০০ হার্টজ (Hz) কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ শ্রবণসীমা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বার্ধক্যে পৌঁছানোর অনেক আগেই অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
দৈনন্দিন কথাবার্তা এবং সঙ্গীতের বড় একটি অংশ এই শ্রবণসীমার মধ্যেই পড়ে। তবে মানুষের শ্রবণসীমার বাইরেও রয়েছে শব্দের বিশাল এক জগৎ। একই পরিবেশে বসবাস করলেও বিভিন্ন প্রাণীর কাছে এসব শব্দ যোগাযোগ, খাদ্য অনুসন্ধান কিংবা পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মানুষের অগোচরে থাকা শব্দ যেসব প্রাণী শুনতে পায়
কুকুর মানুষের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। বিড়ালের শ্রবণসীমা আরও বেশি উচ্চ কম্পাঙ্ক পর্যন্ত বিস্তৃত। বাদুড় ও ডলফিন এমন শব্দও শুনতে পারে, যা মানুষের শ্রবণক্ষমতার অনেক বাইরে।
অন্যদিকে, হাতি এবং কিছু প্রজাতির তিমি অত্যন্ত কম কম্পাঙ্কের বা গভীর শব্দ শুনতে পারে, যা সাধারণত মানুষের কানে ধরা পড়ে না। অর্থাৎ, কোনো প্রাণী যে শব্দ শুনছে তা মানুষের কাছে সম্পূর্ণ নীরব মনে হলেও তার জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত হতে পারে।
মাঝারি কম্পাঙ্কের শব্দ—বিশেষ করে মানুষের কথাবার্তা ও সঙ্গীত—শোনার ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতা বেশ ভালো। কিন্তু অনেক প্রাণীর তুলনায় আমাদের শ্রবণসীমা তুলনামূলকভাবে সীমিত।

এই পার্থক্যের গুরুত্ব কেন অপরিসীম
শব্দের এই অদৃশ্য স্তর প্রাণীদের আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো কুকুর এমন কিছুর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখালে যা আশেপাশের মানুষ শুনতে পাচ্ছে না, তার কারণ হতে পারে কুকুরটি মানুষের তুলনায় উচ্চ কম্পাঙ্কের কোনো শব্দ শনাক্ত করেছে।
বন্যপ্রাণী গবেষকরা বাদুড় ও তিমির শব্দ রেকর্ড ও বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করেন। কারণ এসব প্রাণীর উৎপন্ন বা শনাক্ত করা অনেক শব্দ মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণসীমার বাইরে থাকে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও এসব প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজ চলাচল ও নির্মাণকাজের শব্দ পানির নিচে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তিমির পারস্পরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত শব্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
তাই পরের বার কোনো কুকুর এমন কিছুর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখালে, যা আশেপাশের অন্য কারও কানে আসছে না, সেটিকে শুধু অস্বাভাবিক আচরণ বলে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। সেখানে সত্যিই কোনো শব্দ থাকতে পারে—শুধু সেটি এমন একটি কম্পাঙ্কের হতে পারে, যা মানুষের কান স্বাভাবিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না।